গননার সাতকাহন

General Election 2019 News Political

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,২২ মে:
ইভিএম কারচুপি নিয়ে সরব সব বিরোধী দল। একসাথে তারা অভিযোগও করেছেন নির্বাচন কমিশনে। উত্তর প্রদেশে চান্দৌলিতে ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ধর্নায় পর্যন্ত বসেছেন জোট প্রার্থী। অন্যদিকে আপ নেতা তথা প্রার্থী রাঘব কমিশনকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন মাঝরাতে বদলে দেওয়া হতে পারে ইভিএমের তথ্য। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টির তরফে আট ঘণ্টার শিফট করে স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার কাজ চলছে উত্তর প্রদেশে। তার মধ্যে
গণনা কেন্দ্রে কাউন্টিং এজেন্ট হিসাবে যাঁরা থাকবেন বিশেষ ভাবে সতর্ক ও সাবধান থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিরোধী দলের হাইকমান্ডরা।

কিভাবে হবে রাজ্যে গননা ,তার একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।

সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ছয়টা,পর্যবেক্ষক, রিটার্নিং অফিসার, প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্ট্রং রুম খোলা হবে। গণনা শুরু হবে সকাল আটটায়। পোস্টাল ব্যালট দিয়ে শুরু হবে গণনা। ৫০০ পোস্টাল ব্যালট পিছু একজন অ্যাডিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার থাকবে। ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম এর মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জ ওয়ানরা।ই টি পি বি এস এর তিনটি অংশে কিউ আর কোড থাকবে। তা স্ক্যান করার জন্য প্রতি ৫০০ ভোট পিছু তিনটে মেশিন থাকবে।

এরপর ৮.১০ মিনিটে শুরু হবে ইভিএম মেশিন গণনা। ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট এর তৃতীয় অংশে থাকে রেজাল্ট সেকশন। আউট ডোরে একটি ফ্ল্যাপ থাকে। তা খোলা হয়। এরপর ইনডোরের ডোর খোলা হয়। সেখান থেকেই ইভিএমে থাকা প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট জানা যায়। ওই রেজাল্ট সেকশনটি জালের বাইরে থাকা প্রার্থীদের এজেন্টের দেখানো হবে। প্রতিটি রাউন্ডের গণনা শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক স্বাক্ষর করবেন। এবং তার পরেই পরের রাউন্ডে ইভিএম গণনা কেন্দ্রে আসবে। এভাবে পর পর চলবে গণনা। পর্যবেক্ষক স্বাক্ষর করার পরেই সেটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট,নিউ সুবিধা অ্যাপ,ভোটের হেল্প লাইন অ্যাপে দেখা যাবে।

ইভিএম এর গণনা শেষ হওয়ার পরে ভিভিপাট গণনা হবে। ভিভিপাট গণনার জন্য বিধানসভা পিছু পাঁচটি করে বুথ লটারিতে বাছাই হবে। পর্যবেক্ষক প্রার্থী বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার লটারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। ভিভিপাট গণনার জন্য ভিভি প্যাট কাউন্টিং বুথ তৈরি হবে। ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের কাউন্টার এর মত ওই কাউন্টার হবে পাঁচ দিক ঢাকা। বভিভি প্যাটে ১০x৫.৬ সেন্টিমিটার কাগজে গণনায় জল ব্যবহার করা যাবে না। ২৫টি করে ভিভি প্যাটে কাগজ বান্ডিল হবে। যদি কোন বুথের ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট না দেখায় তাহলে সংশ্লিষ্ট বুথের ভিভি প‌্যাট গণনা হবে। ওই বুথের ভিভি প্যাটের গণনায় চূড়ান্ত হবে। সে ক্ষেত্রে লটারি প্রক্রিয়ায় ঐ বুথ বাদ যাবে।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে
ওইদিনই গণনা কেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকায় অনুমতিহীন কেউ থাকতে পারবেন না। নিরাপত্তায় থাকবে জেলা এক্সিকিউটিভ পুলিশ। গণনা কেন্দ্রের প্রেমিসেস এর দরজার ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর,হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে থাকবে রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ। গণনা কেন্দ্রে এবং স্ট্রং রুমে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসার ছাড়া কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। মহিলারা হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে প্রথম ধাপে পেরোতে পারেন। কিন্তু বড় ব্যাগ জলের বোতল বা খাবার নিয়ে ভেতরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

একজন কাউন্টিং সুপারভাইজার, দুজন কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন কাউন্টিং মাইক্রো পর্যবেক্ষক থাকবেন পোস্টাল ব্যালট গণনায়।

অন্যদিকে ইভিএম গণনায় থাকবেন একজন কাউন্টিং সুপারভাইজার,একজন কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট,একজন কাউন্টিং মাইক্রো পর্যবেক্ষক। জানা গেছে এ পর্যন্ত ১৪৪ জন পর্যবেক্ষক গণনা প্রক্রিয়া থাকবেন বলে স্থির করেছে কমিশন। একজন পর্যবেক্ষক দুই থেকে চারটি বিধানসভা কেন্দ্র জন্য থাকার কথা।

অন্যদিকে বিরোধী দলের দাবি, ফলাফল শাসক দলের বিপক্ষে গেলেই গোলমাল বাধিয়ে ভোটের ফল স্থগিত করে দেওয়ার চেষ্ঠা করা হতে পারে। ভিতরে যাঁরা গণনা করবেন তাঁরা সবাই সরকারী কর্মচারী। তাই তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। এমনকি বি.ডি.ও., এস.ডি.ও, ডি.এম. সবার উপরই চাপ তৈরী করতে পারে শাসক।

বিরোধীদের দাবি পঞ্চায়েত ভোটে ভয় দেখিয়ে যেমন ফলাফল উল্টে নিতে সক্ষম হয়েছিল তেমন ইভিএমের রিডিং উল্টো করে লিখতে বাধ্য করতেও পিছপা হবে না এবার।

কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানদের পরিচালনা করবে রাজ্যপুলিশ। ফলে কৌশলে তাদের এড়িয়ে অস্ত্র নিয়েও ঢুকতে পারে শাসক দলের এজেন্টরা। অনেক কেন্দ্রেই শাসক দল ডামী প্রার্থী অর্থাৎ নির্দল প্রার্থী দাড় করিয়ে রেখেছিল । যাতে কাউন্টিং-হলে শাসক দল দ্বিগুণ সংখ্যক কাউন্টিং এজেন্ট নিয়ে ঢুকতে পারে।

আরও সর্তক করে বলা হয়েছে,কাউন্টিং হলে ঢোকার কিছু আগে বিরোধী দলের কাউন্টিং এজেন্টদের কাছে এমন ফোন যেতে পারে, যে তাঁর বাড়ির কেউ গুরুতর অসুস্থ বা তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে! মনসংযোগ নষ্ট করার জন্যই এই সমস্ত কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে।

এমনকি কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ সরকারী জল বা খাবারও খাবেন না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের তরফে।

যে বিষয় গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে এজেন্টদের দেখার কথা বলা হয়েছে তাহলে….

১.গণনা কেন্দ্রে ঢুকে প্রথমেই দেখে নিতে হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কি না।
২.সি.সি.টি.ভি. কাজ করছে এটা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
৩.শাসক দলের এজেন্টদের কোমর,পকেট, প্যান্টের পায়ের দিকে ভাল করে খেয়াল করে দেখে নিতে হবে যন্ত্রপাতী, ফোন এনেছে কি না। সন্দেহ হলে কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে।
৪.যারা ভোট গণনার টেবিলে থাকছেন, সকলের পরিচয় (কাউন্টিং অফিসার, অন্য এজেন্ট) তাঁদের গলায় ঝোলানো পরিচয় পত্র দেখে নিজের কাগজে নোট করে নিতে হবে।
৫.প্রত্যেকটি ই.ভি.এম.-এর সিল ঠিক আছে কি না দেখে নিতে হবে। সিল-এর উপর প্রিসাইডিং অফিসারের সই আপনার কাছে মজুত রাখা 17-C ফর্মে প্রিসাইডিং অফিসারের সই-এর সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
৬.ভোটের দিন পোলিং বুথে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত 17-C ফর্ম ও ই.ভি.এমের হ্যান্ডেলে ঝোলানো 17-C ফর্ম-এর তথ্য একই আছে কি না দেখে নিতে হবে।
৭.ই.ভি.এম.-এর ক্লোজ বোতাম টেপা ছিল কি না তাও দেখে নিতে হবে।
৮.ই.ভি.এম. অন করার পর পোলিং ডেট দেখে নিতে হবে, পোলিং স্টার্ট টাইম, পোলিং ক্লোজ টাইম দেখে নিতে হবে। তথ্যে অসংগতি দেখলে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
৯.যদি দেখা যায় প্রিসাইডিং অফিসার মক পোলের পর ক্লিয়ার বোতাম টিপতে ভুলে গেছেন, এবং সেই অবস্থায় ভোট হয়ে গেছে। তাহলে কিন্তু পোলিং স্টার্ট টাইম (PS) ভোট শুরুর আগেই দেখাবে। সেক্ষেত্রে গোঁজামিল দিয়ে যদি সংখ্যা মিলানো থাকে, তাহলে মকপোলের বাক্সের সিল খুলে যে প্রার্থী যতগুলি ভোট পেয়েছিলেন, তা বিয়োগ দিতে হবে।
১০.ই.ভি.এম.এ সব ঠিক থাকলে ফলাফল ডিসপ্লে দেখুন! Candidate-1, Candidate-2, Candidate-3…. কোন কোন প্রার্থী তা মুখস্থ রাখুন। ফল দেখে নিজের কাছে যে 17-C ফর্ম মজুত আছে, তার পিছন পিঠে লিখে ফেলতে হবে। সেই সঙ্গে অন্য একটি শীট তৈরী করে নিয়ে যেতে হবে যাতে বুথ নং অনুযায়ী পর পর লিখতে হবে। এবং যোগ দেবেন।
১১. NOTA বোতামটি আগ্রাহ্য করা যাবেনা। NOTA-এর ভোট গুলিও অবশ্যই লিখতে হবে। সবপ্রার্থী এবং NOTA-এর প্রাপ্ত ভোটের যোগফল মোট প্রদত্ত ভোটের সাথে মিলছে কি না তা দেখে নিতে হবে।
১২.প্রতিটি বিধানসভায় ৫টি করে ভিভিপ্যাট মেশিনের কাগজ হাতে গণনা করা হবে। এই পাঁচটি বুথ লটারীর মাধ্যমে ঠিক হবে। আপনার সামনে লটারী যেন হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে।
গণনার সময় চোখ সরানো যাবে না। একই প্রতীকে প্রাপ্ত ২৫ টি করে ভোটের বান্ডিল হবে। এখানে কোনো ভোট বাতিল-এর কোনো কথা নেই।
১৩. হাতে গোনা ফল ও ভি.ভি.প্যাট-এ গোনা ফল একই হচ্ছে কি না তা দেখে নিতে হবে।
১৪. ই.ভি.এম-এর ডিসপ্লে খারাপ থাকলে ভি.ভি.প্যাট-এ গোনা ফলই চূড়ান্ত হবে। তবে সেইক্ষেত্রে সেই ভিভিপ্যাটটি পাঁচটির বাইরে থাকবে।
১৫.কোনো কেন্দ্রে পিছিয়ে থাকলে শাসক দলের এজেন্টরা ভিভিপ্যাট গণনার সময় গণনা মেলেনি বলে একটা ঝামেলা বাধানোর চেষ্ঠা করবে। ই.ভি.এম খারাপ বলে ঐ ই.ভি.এম-টিকে বাতিলের দাবি জানাতে হবে।

১৬.সত্যিই যদি ই.ভি.এম. ডিসপ্লে এবং ভিভিপ্যাট-এর ভোট না মেলে তাহলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে।
১৭.প্রত্যেক মেশিনের গণনা শেষে অফিসারদের মেশিনের গায়ে ঝোলানো 17-C-ফর্মে ফল লিখে সই করতে বলতে হবে। এরপর এজেন্টদের দেখাতে বলতে হবে।
১৮.প্রত্যেক মেশিনের গণনার পর যেন ফলাফল ক্লিয়ার করা না হয়, সেদিকে নজর রাখবেন! কারন পুনর্গণনার প্রয়োজন হতেই পারে।
১৯.ডিসপ্লেতে ইলেকট্রনিক অক্ষর অর্ধেক দেখা গেলে বা ফিগার বোঝা না গেলে, ভিভিপ্যাট গুনতে বাধ্য করতে হবে।
২০.মেজাজ সংযত রাখা সহ অযথা উত্তেজনার ফাঁদে পা না দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এজেন্টদের একই সঙ্গে কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দলের তরফে।গননা এবং গননা পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোন প্ররোচনায় পা না দেওয়ার জন্য রাজ্যবাসীকে অনুরোধ করেছেন সি পি আই (এম) এর রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *