বাড়ি তৈরি হয়েছে ৬৮ লক্ষ ৫৩ হাজারের কিছু বেশি

BJP India News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,১৩ ফেব্রুয়ারি,২০১৯: নিজের বেশিরভাগ সাফল্যই বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আবাস যোজনা নিয়ে মোদী যে বক্তব্য রাখছেন তা নিয়ে উঠেছে একাধিক অভিযোগ। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে ইউপি এর শেষ ৫ বছরের তুলনায় মোদি সরকারের পাঁচ বছরের ঘর তৈরি সংখ্যা অনেক কম। গ্রামাঞ্চলের সোয়া ১ কোটি ঘর তৈরি হয়েছে আবাস যোজনায় এমনটাই দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই দাবি নিয়ে উঠেছে অভিযোগ।

প্রথম অভিযোগ, বাড়ি তৈরির সংখ্যা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।নির্দিষ্ট হিসেব না থাকায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আলাদা আলাদা সংখ্যা বলছেন এক্ষেত্রে। দ্বিতীয় অভিযোগ তথ্য বলার পরও সংখ্যার বিচারে আগের সরকারের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন মোদি সরকার।

যদিও যোজনা কমিশনের ২০১৩-১৪ অর্থ বর্ষের রিপোর্টও ২০০৪-০৫এর মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্ট তুলনা করে দেখা যায় ২ কোটি ৫ লক্ষ ৪৭ হাজার বাড়ি তৈরি হয়েছে ইউপিএ সরকারের শেষ দশ বছরে। কিন্তু বিজেপি প্রচারে গিয়ে দাবি করছে ইউ পি এ সরকারের আমলে মাত্র ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে মোদি সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রথম রিপোর্ট কিন্তু অন্য কথাই বলছে। সেখানে বলা হয়েছে ১৯৮৫ তে ইন্দিরা আবাস যোজনা শুরু সময় থেকে২০১৪ পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ ৮২ হাজার বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন তার আমলে তৈরি হয়েছে১.২৫ কোটি বাড়ি। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন আদৌ এই সংখ্যায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে কিনা তা নিয়ে সংশয় এর অবকাশ আছে।

তাদের অভিযোগ সংখ্যা নিয়ে বাড়তি কৃতিত্ব দাবি করা উচিত নয়। কারণ গড় হিসেব অনুযায়ী ইউপিএ সরকারের ১০ বছরে ২ কোটি ৫ লক্ষের তুলনায় বাড়তি বিশেষ কিছু হয়নি বলে দিচ্ছে সংখ্যাতত্ত্বই

ফলে প্রধানমন্ত্রী যে হিসেব দিচ্ছেন তার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। যখন তার মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল একই প্রসঙ্গে অন্য দাবি করছেন। ১ফেব্রুয়ারি লোকসভায় অন্তর্বর্তী বাজেটের ভাষণ দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর পীযূষ গোয়েল জানান মোদী সরকারের আমলে ১.৫ কোটি বাড়ি তৈরি হয়েছে। আর এর পরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর হিসেবের মধ্যে কিভাবে ২৫ লক্ষ্যের ফারাক সম্ভব হলো। এরমধ্যে আবার বাড়ি তৈরীর আগের প্রকল্পের বদলে মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন চালু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ওয়েব সাইটে যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে তা আলাদা।

২০১৬ তে এই প্রকল্প চালুর পর থেকে জমা করা আবেদনের সংখ্যা ১ কোটি ১২ লক্ষ ৪১ হাজার ৮২৪। এই আবেদনের মধ্যে ৯৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪২১ টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। বাড়ি তৈরি হয়েছে ৬৮ লক্ষ ৫৩ হাজারের কিছু বেশি।

২০১৪তে কেন্দ্রে মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি জোট সরকার গঠিত হয়েছিল। ২০১৪-১৫ও ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে আগে থেকে চালু থাকা ইন্দিরা আবাস যোজনায় কাজ হয়েছে। এই দুই অর্থবর্ষে হিসেব ধরলে গ্রামাঞ্চলে বাড়ি তৈরি সংখ্যা১ কোটি ৩ লাখ ২৭ হাজার। এটি অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ১.২৫ কোটি তুলনায় অনেকটাই কম।এখানেই শেষ নয় দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের মেয়াদে ৫ বছরের বাড়ি তৈরি সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ লক্ষ্য বেশি।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী দেওয়া তথ্য নিয়ে আরো প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৫ তে গ্রাম উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি বাড়ি তৈরীর যোজনা রিপোর্ট দেয়। মন্ত্রক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিল ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ১৬ লক্ষ ৫৩ হাজার বাড়ি তৈরি হয়েছে।আবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো ২০১৮র ১আগস্ট বছর ভিত্তিক সংখ্যার উল্লেখ করে। সেই তথ্য বলছে ২৯১৪-১৫ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় প্রকল্প তৈরি বাড়ির সংখ্যা ১১ লক্ষ ৫৩ হাজার। আর এর থেকে স্পষ্ট হচ্ছে সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া মন্ত্রকের তথ্যে বাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।

একটি বিশেষ অংশের মানুষ কে নির্দিষ্ট করে বাড়ি তৈরীর অনুদান প্রকল্প ভারতবর্ষে শুরু হয়েছে ১৯৮৫সালে নাম ঠিক হয়েছিল ইন্দিরা আবাস যোজনা । তপশিলি জাতি, আদিবাসী এবং বদ্ধ দশা থেকে বেরিয়ে এসেছেন এমন মানুষের জন্য এই প্রকল্প শুরু হয়। প্রথম দিকের একটা বড় সময় ইন্দিরা আবাস যোজনা অন্য প্রকল্পের অধীনে ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে এই প্রকল্প স্বাধীন হয়। এরপর ২০১৬ তে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা চালু করেন নরেন্দ্র মোদি। ঘোষণা করেন ২০২২এর মধ্যে সকলের জন্য বাড়ি তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন তারা।

কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ইন্দিরা আবাস যোজনাই পুনর্গঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা(গ্রামীণ) করা হয়েছে।নতুন প্রকল্পে গ্রামীন এর পাশাপাশি আর একটি অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে শহরাঞ্চলে বাড়ি তৈরীর জন্য।

শহরে গরীব মানুষের জন্য বাড়ি তৈরি প্রকল্পের নির্দিষ্ট ছিল রাজীব গান্ধী আবাস যোজনার আওতায়। তবে পুনর্গঠনের পর বাড়ি তৈরীর জন্য বরাদ্দ অর্থ৭০হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ ২৫ টাকা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *