সংগ্রামের বার্তা সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ১২ তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে

India Maharashtra News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,মুম্বাই,২৭ শে ডিসেম্বর:দেশজুড়ে সরকার বিরোধী উত্তাল আন্দোলনের মধ্যেই শুরু হলো সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ১২ তম জাতীয় সম্মেলন মুম্বাইতে।দেশ গঠনে সমাজ গঠনে মহিলাদের অংশগ্রহণকে সুনিশ্চিত রাখতে এই সম্মেলনে দিশা দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।দেশের অন্যতম বৃহৎ মহিলা সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।একদিকে যখন মহিলাদের ভোগ্য পন্য করে তোলা হচ্ছে,আরেকদিকে গার্হস্থ্য হিংসার বলি হচ্ছে,আরেকদিকে নারী শিক্ষার প্রসার নিচের দিকে এসবের বিরুদ্ধে একাধিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।

ভারতের ২৩ টি রাজ্যে ছড়িয়েছে এবং এটি নারীর অধিকার, সাম্যতা এবং সুরক্ষার জন্য লড়াইয়ের জন্য পরিচিত । আজ থেকে ৩ দিন আলোচিত হবে দেশের নারীদের আন্দোলন কোন পথে অগ্রসর হবে। সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় আজাদ ময়দানে, সমাবেশে উপচে পড়ে ভিড়। সমাবেশে ২৪ টি রাজ্যের ৮০০ প্রতিনিধি এবং মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য, বিধায়ক, মহারাষ্ট্রের সচিব হাতিওয়ালেকার সহ ৫০ জন বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন রাজ্য সভাপতি নাসিমা শেখ। কেন্দ্রীয় নেত্রী বৃন্দা কারাট, সুভাষিনী আলি, কৃষক সভার পক্ষ থেকে ডঃ অশোক ধাওয়াল এবং সিআইটিইউর রাজ্য সম্পাদক এবং নবনির্বাচিত বিধায়ক বিনোদ নিকোলে উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মলিনী ভট্টাচার্য, মরিয়ম ধাওয়াল, এবং বিশিষ্ট অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতি, মালিনী ভট্টাচার্য্য পতাকা উত্তোলন করেন বাইকুলার মিলনায়তনে সাবু সিদ্দিক পলিটেকনিক কলেজ প্রাঙ্গনে। এরপরে প্রতিনিধিরা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাধারণ সম্পাদকের পরিচিতি ও স্বাগত সংগীত শেষে সম্মেলনটি শোক প্রস্তাবটি পাস করে শুরু হয়েছে আলোচনা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপ্তি মুখোপাধ্যায়। তিনি মহারাষ্ট্রে প্রগতিশীল নারীদের আন্দোলনের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন এবং আজ নারীদের সামনে যে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন সেগুলি তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে দ্বাদশ সম্মেলন সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৌশল তৈরি করবে। এরপরে স্বরা ভাস্কর এবং ডাঃ কাজী, বৃন্দা কারাত এবং ড ফৌজিয়া মোসলেম সহসভাপতি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিশেষ অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত অভিনেতা স্বরা ভাস্কর, তিনি মহিলা সমিতির কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যে, সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধে আসল লড়াই করছে নারী স্বাধীনতার লক্ষে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীরা ,আজ নাগরিকদের সামনে অস্তিত্বের সংকট তাই লড়াইয়ে মহিলাফের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এসেছে দেশ রক্ষার সংগ্রামে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির লড়াই তে তিনি ও শামিল।

মহিলা আন্দোলনের গুরুত্ব ও কাজগুলি নিয়ে এক দিক নির্দেশ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বৃন্দা কারাত। তিনি বৃহত্তর শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনে মহিলা সমিতির এর প্রতিষ্ঠাতা (গোদাবরী পারুলেকার, বিমল রানাদিভ এবং অহল্যা রাঙ্গনেকরের মতো) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে জোর দেন। তিনি মহারাষ্ট্রের সমাজ সংস্কারের প্রগতিশীল ঐতিহ্যের বিবরণও দেন। এই উত্তরাধিকারকে সমসাময়িক দৃশ্যের সাথে সংযুক্ত করে, বৃন্দা কারাত পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরালায় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীদের প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেন। যারা সংঘ পরিবার এবং তৃণমূল এর মতো অগণতান্ত্রিক দলগুলির বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। কারাট এই সংগ্রামগুলি উদীয়মান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি বর্ণনা করেন। তিনি রোজা লুক্সেমবার্গের অনুপ্রেরণামূলক শব্দের অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে প্রতিনিধিদেরকে একটি অত্যাচারী ও দমনকারী রাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে বলেছিলেন: “তুমি যা কর তাই কর – আমরা ছিলাম, আমরা ছিলাম এবং আমরা সর্বদা থাকব”।

সামাজিক ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিরোধে অবদানের জন্য আট জন মশাল বহনকারীকে সম্মানিত করা হয়। সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং সম্মান হত্যা; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করুন এবং সংঘ পরিবারকে প্রতিহত করুন এবং সরকারের নব্য কৃষিবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার আহবান জানান হয় অধিবেশন থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *