দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত মিত্র

Bankura District News

নিউজ ফ্রন্ট লাইনার ওয়েব ডেস্ক,১৩ ই সেপ্টেম্বর,তিমিরকান্তি পতি,বাঁকুড়াঃ মাত্র তিন মিনিট ৫৭ সেকেণ্ডের একটি ভিডিও ঘিরে উত্তাল বাঁকুড়ার জঙ্গল। যেখানে দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত মিত্র। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য জঙ্গল মহলের গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলা রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল’ হওয়া এক ভিডিও তে দেখা ও শোনা যাচ্ছে কর্মি সমর্থকদের সামনে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত মিত্র বলছেন, ‘প্রোপার মূল্যায়ন হচ্ছেনা। পার্টিটা দালালে ভরে গেছে’। এরপরেই রানীবাঁধের তৃণমূল বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডির নাম করে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, মানুষের দরজায় ঘুরে ঘুরে ওঁকে নির্বাচিত করলাম। খাতড়ার মানুষের কোন উন্নতি না করে পাঁচ বছরতার স্বামী ও সে নিজে ‘ডং ডং করে কাটিয়ে দিল’। এমনকি এই পাঁচ বছরে গাড়ি, বাড়ি, ৪০ বিঘা জমি সহ ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাড়িয়ে নিয়েছেন বলেও ঐ ‘ভাইরাল’ হওয়া ভিডিওতে জয়ন্ত মিত্রকে দাবি করতে শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ‘কাজের মানুষদের সরিয়ে ফেক দালালদের দলে ঢোকানোর চেষ্টা করলেও সে সফল হয়নি। দল ওকে আর প্রার্থী করবেনা। তবে ‘দূরাত্মার ছলের অভাব হয়না’। শ্যামল সাঁতরা (দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি) কে ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও সে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেবেনা বলে জানিয়েছে বলে ঐ ‘ভাইরাল’ ভিডিওতে দাবি করেন। তিনি নিজেও ঐ 'ভাইরাল' ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে রানীবাঁধের তৃণমূল বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি বলেন, দলের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। নেতৃত্ব সহ জেলাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে...। বিধায়ক হওয়ার পর বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'অনলাইনের যুগ। যে কেউ চাইলেই তা দেখে নিতে পারেন। আর ঐ ধরণের মন্তব্য করেছেন জানিনা। দল যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে বলেই সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এই মুহূর্তের 'বিতর্কিত' তৃণমূল বিধায়ক। একই সঙ্গে গত শুক্রবার বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ 'স্টেটাসে' লেখেন 'মানুষ আত্মহত্যা করে খুব অবসাদে। আর রাজনীতি ছাড়ে ধিতকারে'। এই ঘটনার জেরেই কি ঐ স্টেটাস? এবিষয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি তাঁর কাছ থেকে।

আর এই বিতর্ক যিনি উস্কে দিয়েছেন তৃণমূলের সেই জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত মিত্র তাঁর ‘ভাইরাল’ ভিডিও প্রসঙ্গে বলেন, উনি (বিধায়ক) কি সম্পত্তি করেছেন দল দেখবে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। আমি যদি কিছু বাড়াবাড়ি করে থাকি সেটা কাম্য নয়। ‘ভাইরাল’ ভিডিও তে তিনি যা বলেছেন তা আবেগের বশবর্তী হয়ে বলা হয়েছে বলেও অন ক্যামেরা বলেন।

এবিষয়ে আমরা কথা বলেছিলেন তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরার সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। দলের আভ্যন্তরিন বিষয়। আলোচনা করে মিটিয়ে নেবো। বৃহৎ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ‘মনকষাকষি’ হয়েই থাকে। নিজেরাই তা মিটিয়ে নেবেন বলে তিনি জানান।

আর এই বিষয়টিকে সামনে পেয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেনা এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। দলের জেলা নেতা ও ঐ বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা শ্যামল সরকার (বেনু) বলেন, তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী। এ ওকে ‘চোর’ বলছে, দোষারোপ করছে। এটাই তো ‘তৃণমূলের কালচার’। পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগীতা চলছে ‘কে কাকে বড় ডাকাত বলতে পারবে’। আগামী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বাংলা থেকে উৎখাত হবে বলেও এই বিজেপি নেতা দাবি করেন।

বাইট:
1) জ্যোৎস্না মাণ্ডি (বিধায়ক)
2) জয়ন্ত মিত্র (সাধারণ সম্পাদক, জেলা তৃণমূল)
3) শ্যামল সাঁতরা (সভাপতি, জেলা তৃণমূল সভাপতি)
4) শ্যামল সরকার (বেনু) (বিজেপি নেতা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *