জন্মদিনে সব্যসাচী

District News Kolkata

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,কলকাতা, রজত মল্লিক,৮ ই সেপ্টেম্বর:শুভ জন্মদিন বেণু দা।তোমার ব্যক্তিত্বপূর্ণ অথচ অমায়িক সদামিষ্ট ব্যবহার এবং তোমার কর্মজীবনের ব্যাপ্তি কিংবা নিষ্ঠা ব্যক্ত করার ধৃষ্টতা আমার কলমে অনুপস্থিত।শুধু আজ শুভ দিনটিতে এটুকুই বলার তোমাকে দেখলেই ভালো লাগে,কথা বলে আরাম পাই।প্রণাম বেণু দা।

১৯৫৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর আজকের দিনটিতে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সর্বক্ষণের নাট্যকর্মী এবং অভিনয় প্রেমী একজন নিপাট ভদ্র মানুষ সব্যসাচী চক্রবর্তী।বাবা জগদীশচন্দ্র চক্রবর্তী।মা মণিকা চক্রবর্তী।দিল্লিতে পড়াশোনা করার সময় থেকেই নাটকের সাথে যুক্ত তিনি। প্রথম অভিনয় তাঁর পিতার নাট্যদল চলন্তিকা গোষ্ঠীর সীতার অগ্নিপরীক্ষা নাটকে ১৯৭৫ সালে।

চার্বাক নাট্য গোষ্ঠীতে যোগদান করেন ১৯৮৩ সালে।চার্বাক নাট্যদলের যেসব নাটকে অভিনয় করেছেন বেনু দা অর্থাৎ সব্যসাচী চক্রবর্তী সেই নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম উত্তরপুরুষ,এ এক ইতিহাস,পদ্য গদ্য প্রবন্ধ,কর্ণিক, কুমিরের কান্না,আত্মার শান্তি,সতী,অথশিক্ষাবিচিত্রা,বানজারা,মুখোমুখি,ঠিকানা,পাড় মিলে নাই,প্রত্যাশা,কান্দে কেন বেহুলা সোন্দরী,অপ্সরা থিয়েটারের মামলা,চলো পটল তুলি,দুধ খেয়েছে ম্যাও,চিটে গুড়,এখন তখন,রঙ,শিরোনাম এবং চার্বাকের চলতি প্রযোজনা ভীতি ও শুভেচ্ছা।এর ভেতর অপ্সরা থিয়েটারের মামলা নাটকটির নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর দুই সুযোগ্য অভিনেতা পুত্র।বড়পুত্র গৌরব(নিকি),এবং ছোট পুত্র অর্জুন(ঋষি)।দুজনই ছোটপর্দা ও বড়পর্দার পাশাপাশি চার্বাক নাট্যদলের নিয়মিত মঞ্চাভিনেতা।

মঞ্চের আলোকবিন্যাস এবং শব্দ প্রক্ষেপণের বিশেষ দক্ষতা আছে সব্যসাচী দার গুণের লম্বা তালিকায়।সোনেক্স সংস্থার অডিয়ো বিভাগের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ছিলেন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী।পাশাপাশি চলচ্চিত্রে এবং দূরদর্শনের ধারাবাহিকে জনপ্রিয় নায়ক।তবুও আজীবন মঞ্চ নাটক এবং মঞ্চের নেপথ্যের কাজগুলিকেই অগ্রাধিকার এবং বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন বেনু দা। মাথায় করে সেট বওয়া থেকে শুরু করে প্রপস গোছানো কিংবা থিয়েটারের যে কোনো কাজে কখনও অনীহা প্রকাশ করেননি তিনি। বরং আনন্দ আর অক্সিজেন আহরণ করেন তিনি মঞ্চের আড়ালের কাজগুলি থেকে।

যে কোনো অভিনয় সন্ধ্যায় নাটক শুরুর আগে তো বটেই এমনকি নাটকের শেষেও গুণমুগ্ধ দর্শকদের থেকে কৌশলে নিজেকে সরিয়ে একটা প্রিন্টেট লিস্ট দেখে নাটকের প্রপসের একটা একটা করে ট্রাঙ্কে তুলে রাখার যে দৃষ্টান্ত তিনি দীর্ঘকাল ধরে নিয়মিত পালন করে আসেন তা ওনার মানের একজন হ্যালোযুক্ত অভিনেতার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।নাট্যবিষয়ক যাবতীয় শিক্ষা তাঁর নিজের পিসেমশাই এবং চার্বাক নাট্য গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ জোছন দস্তিদারের কাছে।সব্যসাচী চক্রবর্তীর স্ত্রী মিঠু চক্রবর্তীও একজন অত্যন্ত গুণী অভিনেত্রী এবং চার্বাক নাট্যদলের বেশকিছু প্রযোজনায় অভিনয়ও করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *