পূর্ণিয়া স্মরণ করলো শহীদ জননেতা অজিত সরকারকে

Bihar News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,বিহার,১৪ ই জুন:১৯৯৮ সালের ১৪ ই জুন বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় অভিভাবক হীন হয়ে পড়ে, জমি মাফিয়াদের আক্রমণে এলাকার জননেতা সিপিআইএম বিধায়ক অজিত সরকার শহীদ হয়। পূর্ণিয়া বিধানসভা থেকে ১৯৮০ সাল থেকে তিনি লাগাতার সিপিআইএম এর প্রতিকে জিতেছেন।টানা চারবার এই কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হোন।যতবার জিতেছেন এলাকায় ভূমি রক্ষার আন্দোলন তীব্র হয়েছে আর কোণঠাসা হয়েছিল ভূস্বামী এবং জমি মাফিয়ারা।

অজিত সরকার দরিদ্র কৃষকদের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। অজিত সরকার ছিলেন পূর্ণিয়া থেকে একজন নামী হোমিওপ্যাথ চিকিৎসকের ছেলে। তাঁর জন্ম বিহারের পূর্ণিয়ার রাণীপাটরা গ্রামে। এই ভূমিতে বেড়ে ওঠা, দরিদ্র ও ভূমিহীনদের পক্ষে সামন্তবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণার অনুভূতি শৈশবকাল থেকেই অজিত সরকারের মনে জন্মেছিল। বড় হয়ে অজিত সরকার মার্কসবাদী হয়ে ওঠেন। তারা জমিদারদের জমি কেড়ে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ শুরু করে। দরিদ্র লোকেরা তাকে অজিত দা বলে ডাকত।

পূর্ণিয়ার ঝান্ডা চকের কাছে কে অজিত সরকারের কার্যালয় ছিল। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এক অনন্য স্টাইল তাঁর ছিল। এলাকার এক সিপিআইএম নেতার কথায় প্রচারের নামে তিনি হাঁড়ি রেখে মার্কেটে বসে দর্শনার্থীদের তাঁর পাত্রের মধ্যে এক টাকার মুদ্রা রাখতে বলতেন। কাউকে এক টাকার বেশি রাখার অনুমতি ছিল না। শীঘ্রই, এক টাকার মুদ্রার একটি গাদা তার পাত্রের মধ্যে গাদা হয়ে যাবে। সেই মুদ্রাগুলি ঘরে ফিরিয়ে তাদের গণনা করা। এ থেকে আমরা অনুমান করতাম যে কমপক্ষে সে এত বেশি ভোট পাবে।

অজিত সরকার যখন টানা চারবার পূর্ণিয়া থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। তখন বিহারের রাজনীতিতে বন্দুক ও সন্ত্রাসের যুগ ছিল। বন্দুক মানে পেশী শক্তি এবং অর্থ শক্তি। অর্থাৎ যে প্রার্থীর গুন্ডা ও টাকা ছিল, একই নেতা এমপি বা বিধায়ক হয়ে যেতেন। রাজনীতিতে অজিত সরকারের উত্থান ছিল এক অনন্য ঘটনা চারবার বিধায়ক হওয়ার পরেও তিনি নিজের জন্য কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্জন করেননি। তিনি পূর্ণিয়ার দুর্গাবাড়ী লোকালয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ সময় বাড়ির ভাড়া ছিল ছয়শত টাকা। বাড়ির ব্যয় পরিচালনা করতেন তাঁর স্ত্রী মাধবী সরকার। মাধবী একজন সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। অজিত সরকারের উত্থানের ফলে পুরো পূর্ণিয়া জেলার পুঁজিবাদী ও সামন্তবাদী মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন।

১৯৯৮ সালের ১৪ ই জুন সন্ধ্যায় পূর্ণিয়া শহরের ভিতরে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তখন অপরাধীরা তাকে ঘিরে ফেলে। অপরাধীরা তাদের দিকে একটানা গুলি চালানো শুরু করে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে যে অপরাধীরা তাকে লক্ষ্য করে 107 গুলি ছুড়েছিল।প্রাক্তন সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব, রাজন তিওয়ারি এবং অনিল কুমার যাদবকে অজিত সরকার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে পাপ্পু যাদবকে আট বছরের জেলও কাটাতে হয়েছিল।

আজ তাঁর শহীদ দিবস উপলক্ষে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে সিপিআইএম গভীর ভাবে শ্রদ্ধা অপর্ন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *