লড়াইয়ের স্পন্দন কেন্দ্র রায়গঞ্জ

District News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,উত্তম দে, রায়গঞ্জ ,১৭ ই এপ্রিল:যে শহরের ওপর দিয়ে কলকল শব্দে কুলিক নদী বহমান,যে শহর উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্হান,সেই রায়গঞ্জ শহরে এসে একটা চাপা ক্ষোভ অনুভুত করলাম।বিগত সরকারের আমলে সাবেক দিনাজপুর জেলা ভেঙ্গে নতুন জেলার ঘোষনার পর রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলা সদর।কৃষি,মৎসচাষ এই জেলার মুখ্য জীবিকা।এই জীবিকার সাথে যুক্ত মানুষদের বক্তব্য,চাষবাসের জন্য উপযুক্ত সরকারী সাহায্য পাওয়া যায় না।সার তথা অনান্য কৃষি উপকরনের ওপর থেকে ভর্তুকী হ্রাসের ফলে চাষের খরচ বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।কিন্তু সেই অনুপাতে উৎপাদিত দ্রব্যের বাজারমূল্য না পাওয়ায় অনেকেই ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে পরেছেন।কৃষকদের ক্ষোভ উপচে পরছে সরকারের ওপর।তারা অভিযোগ করেন,ঘোষনামতো সরকার তাদের কাছ থেকে সরাসরি উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করেন না,বা করলেও তা যৎসামান্য।তার উপরে রয়েছে চেক বিভ্রাট।তাদের অভিযোগ এরফলে তারা কমদামে ফঁড়ে বা দালালদের কাছে অনেক কম দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।পঞ্চায়েত নিয়ে প্রশ্ন করলে বলেন,সেই দিন নেই গো বাবু।এখন পার্টির ঝান্ডা না ধরলে কিছুই পাওয়া যায় না।আর পাওয়া গেলেও প্রাপ্য অর্থের একটা অংশ পার্টির নেতাদের নজরানা দিতে হয়।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে বোঝা গেলো কর্মসংস্হান এই জেলার অন্যতম প্রধান সম্যসা।কিছুদিন পূর্বেই এই জেলার এক যুবতী এস এস সি চাকরীর দাবীতে কলকাতায় অনশনে বসে অসুস্হ হয়ে পরেছিলেন।বেকারত্ব যেন এই জেলাকে গ্রাস করেছে।অথচ এই জেলার করোনেশন,বিদ্যাচক্রের মতো বিদ্যালয় রয়েছে,যারা বেশকিছু বছর ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করে জেলাকে গর্বিত করে আসছে।কাজ না পেয়ে জেলার বেকার যুবদের অনেকেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।এই জেলার দীর্ঘ্য দিনের দাবী এইমস ধাঁচের হাসপাতাল।এই দাবী নিয়ে জেলাবাসী অনেক আন্দোলন করেছেন।অভিযোগ স্হানীয়রা জমি দিতে ইচ্ছুক হলেও রাজ্য সরকারের অনিচ্ছায় এইমস স্হাপিত হয় নি।জটিল চিকিৎসায় জেলাবাসীর ভরসা হয় মালদা,নাহয় সুদুরের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল।রায়গঞ্জ শহরে রাজ্যসরকারের তরফে মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল করলেও অভিযোগ এর পরিকাঠামো আজো সম্পুর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি।কিছুদিন পুর্বেই এর চাঙ্গড় ভেঙ্গে রোগী আহত হন।বর্ষাকালে এই হাসপাতালের ভেতরেই জলে থৈ থৈ করে।
এই আসনে এবার মুলতঃ চর্তুমুখী লড়াই হতে চলেছে।বামেদের প্রার্থী বিদায়ী সাংসদ মহঃসেলিম।কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করছেন প্রীয় জায়া দীপা দাশমুন্সী।বিজেপির হয়ে রয়েছেন দেবশ্রী এবং তৃণমূলের প্রার্থী কংগ্রেস থেকে দলবদল করে আসা কানাইলাল আগরওয়াল।

স্হানীয় দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিজেপির প্রার্থীকে নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে।প্রচারের সময় প্রার্থীকে এই দলীয় ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।এক সময়ের কংগ্রেসের আধিপত্যে থাকা এই জেলায় দলবদলের ধাক্কায় কংগ্রেস আজ অনেকটাই ম্রিয়মান।কংগ্রেস এই নির্বাচনে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রীয়রঞ্জন দাশমুন্সীর আবেগকে হাতিয়ার করেছে।যদিও অভিযোগ জেলার বিপদ বিশেষকরে বন্যার সময় বৌদিকে তেমনভাবে পাওয়া যায় নি।বাম প্রার্থী মহঃ সেলিম তার প্রচারে মুলতঃ তার উন্নয়ণমুলক কাজ,বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও আচ্ছেদিনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি,চিটফান্ড সহ আর্থিক কেলেঙ্কারীতে তৃণমূলের নেতাদের নাম জড়িয়ে পরার অভিযোগকেই প্রাধাণ্য দিয়েছেন।ভোটারাও মানছেন সাংসদ হিসেবে সেলিমের কৃতিত্বকে।তারা বিশেষকরে উল্লেখ করছেন বন্যার সময়ে লুঙ্গি পরে ও কাঁধে গামছা নিয়ে দুর্গতদের পাশে সেলিমের দাড়ানোর কথা।সুবক্তা সেলিমের বিগত লোকসভার শেষদিনে চিটফান্ড নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য অনেকেরই মন ছুঁয়ে গেছে।তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যসরকারের উন্নয়ণমুলক কাজকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।কিন্তু,ভোটারদের অনেকেরই বক্তব্য তিনি কংগ্রেসের ভোটে জিতে ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।আবার বাম ও কংগ্রেসের ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়ার পরে ইস্তফা না দিয়ে দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ভোটারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।কারন মানুষ তাকে ভোট দিয়েছিলেন তৃণমূল বিরোধী প্রার্থী হিসেবেই।এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শাসকদলের দৌরাত্ব নিয়েও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেলো।
এই পরিস্হিতির ওপর দাড়িয়ে আগামী আঠারোই এপ্রিল এই আসনের নির্বাচন হতে চলেছে।সব দল শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।সামগ্রিক ভাবে উন্নয়নমুলক কাজে অংশগ্রহন,প্রার্থী হিসেবে গ্রহনযোগ্যতা,বিপদের দিনে পাশে থাকা,এলাকার সমস্যা সংসদে তুলে ধরা- এসবের বিচারে কিছুটা হলেও এই হেভিওয়েট আসনে বামপ্রার্থী মহঃ সেলিম এগিয়ে।বাকিটা তেইশে ই ভি এম খুললেই বোঝা যাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে আসলি সিকেন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *