ভারতের অর্থনীতিতে জিডিপির হার নিম্নমুখী

Delhi India News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক, ১লা মার্চ ২০১৯ঃ-
বিকাশ তত্ত্বের প্রভাব শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করেছিলো সন্দেহ নেই।ভারতের গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাকশনের হারের রেখচিত্র বিগত কয়েক বছর ধরে প্রত্যেক কোয়ার্টারেই ছিলো কেন্দ্রের শাসক দলের প্রচারের হাতিয়ার।যদিও বেশ কয়েকজন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ দের মত ছিলো ভিন্ন।

২০১৩ আর্থিক বর্ষে জিডিপির হার ছিলো ৬.৩৯%। ২০১৪,২০১৫,২০১৬,২০১৭ তে ছিলো যথাক্রমে ৭.৪১%,৮.১৬%,৭.১১%,৬.৬৮%। ২০১৮ সালের পূর্বাভাষে বলা হয়েছিলো তা হবে প্রায় ৭.৩%। কিন্তু সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষার পূর্বাভাষ ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর কোয়ার্টারে জিডিপির বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশে নেমে এসেছে ।

এই পূর্বাভাষ যদি সত্যি হয় তাহলে বলা যেতে পারে সাম্প্রতিককালের মধ্যে সবচেয়ে শ্লথ গতি ভারতের বিকাশের।নির্বাচনের প্রাক মূহুর্তে এই তথ্য বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে যথেষ্ট বিড়ম্বনার।২০১৮-১৯ ফিসক্যাল বছরের এই তথ্য মার্চ মাসে প্রকাশিত হবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত অর্থনীতিতে আভ্যন্তরীণ এবং বাইরের চাহিদা কমে গেলে তার প্রভাব পড়তে দেখা যায় জিডিপির হারে।আভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমার অর্থ দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমা।বিভিন্ন বিরোধী দলগুলি এই অভিযোগই বারংবার করে আসছিলো।বিশেষত বামেদের বক্তব্য ছিলো নির্দিষ্ট।সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের কথায় ” দেশের সম্পদ কুক্ষিগত হয়েছে মুষ্টিমেয় এর হাতে।ধান্দার ধনতন্ত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে।”

গ্রামীণ অর্থনীতি তে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি না করা গেলে ভারতের অর্থনীতিতে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। যুদ্ধের আবহ সৃষ্টির আগে দেশের রাজনীতিতে মূল ইস্যু ছিলো কৃষকের ফসলের দাম না পাওয়া এবং কৃষকের আত্মহত্যা। বিগত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে রাম মন্দির ইস্যু কে পরাস্ত হতে হয়েছিলো কৃষকদের ঋণ মুকুবের ইস্যুর কাছে।নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠন করার পর কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীরাও এই সম্পর্কে নির্দিষ্ট ঘোষনা করতে বাধ্য হয়েছিলো।এমনকি রাহুল গান্ধীকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিলো কংগ্রেসের জয়ী রাজ্যগুলোতে।
বর্তমানে যুদ্ধের আবহে দেশের রাজনীতিতে ইস্যু পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।কিন্তু যুদ্ধের আবহ আর্থিক বিকাশের হারে কি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে?অর্থনৈতির পন্ডিতদের মত এই প্রভাব হবে আরো নেতিবাচক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *