৬৯ এ ব্রিগেডে বসেই শপথ নিই, যতদিন হাঁটতে পারব ব্রিগেড মিস করতে পারব না। স্মৃতিচারণের ব্রিগেড

News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,সৌরেন চক্রবর্তী,দুর্গাপুর,১লা ফেব্রুয়ারি:এখন ৭৩ চলছে। এই বয়সে কিছু গতানুগতিক ট্যাবলেট খেতেই হয়। হঠাৎ স্পন্ডেলাইটিস ও পেটের গোলমাল নামক দুটি উপসর্গ‘অসময়ে উপস্থিত হওয়ায় বাড়ীর লোকজন বেঁকে বসেছিল, কিছুতেই এবারের ব্রিগেড যেতে দেবে না। বললাম বাড়ীর কোন বিশেষ প্রয়োজনে কলকাতা যেতে হলে কি বলতে? কমরেড জ্যোতি বসুর ব্রিগেডের জনসভায় শেষবারের বক্তব্য টা মোবাইলে চালিয়ে দিয়ে বললাম শোন, ২৫ মিনিট মত সংক্ষিপ্ত ভাষণ অথচ সবদিক কভার করা —বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলছেন—“ বিমান যখন বলল-আমি বললাম, জানোই তো গত একমাস যাবৎ শয্যাশায়ী। তো বিমান বলল-আপনি শুধু গিয়ে হাত নাড়বেন, সমথ’ন জানাবেন তা হলেই হবে। — -বত’মানে আমি অসুস্থ , ৯৩ বছর পেরিয়ে গেছে ৯৪ চলছে । অনেকগুলো কথা বলে ফেললাম। মাফ করবেন“। বাড়ীর সকলে বুঝে গেল আমাকে নড়ানো যাবে না। আসলে ৬৯ সনটা আমার কাছে স্মরনীয় তিনটি কারনে। প্রথমত ঐ বছর প্রফুল্ল ঘোষ মন্ত্রী সভার বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলনে ৩৯ দিনের জন্য জেলে ছিলাম। দ্বিতিয়তঃ যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের পর ব্রিগেডের সভায় —মুড়ি বেঁধে, বাচ্চা কোলে নিয়ে গ্রামগঞ্জ থেকে আসা মহিলা পুরুষদের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল থেকে ট্রেনগুলিতে গাদাগাদি ভাবে ভতি’ হয়ে আসা শ্রমিকশ্রেনীর লাল পতাকা হাতে মানুষের বিজয়ী হওয়ার উজ্জ্বল উপস্থিতি, তাদের বাংলা জয় করে ফেলার উচ্ছ্বাস দেখে নিজের অজান্তে শপথ নিয়েছিলাম—যতদিন হাঁটতে পারব ব্রিগেড মিস করব না। তৃতীয়তঃ ৬৯ সনেই এ বি টি এ ’র চন্দননগর সম্মেলন থেকে সামান্য কিছু সদস্য প্রয়াত সত্যপ্রিয় রায় ও প্রয়াতা অনিলা দেবী সব প্রয়াসকে ব্যথ’ করে দিয়ে এ বি টি এ সংগঠনকে ভাগ করার ষড়যন্ত্রে সামিল হয়ে সম্মেলন থেকে বেড়িয়ে এসে চন্দননগর রেল স্টেশনের কাছে জড়ো হয়ে আলাদা সংগঠন এস টি ই এ গঠন তৈরী করেন। বলা বাহুল্য এতে এ বি টি এ’র শক্তি কমার বদলে সদস্যসংখ্যা বেড়ে যায়; সে প্রসঙ্গ এখানে থাক।
৬৯ ও ৭৭ এর ব্রিগেড ছিল লড়াই এ জয়ী হওয়ার ব্রিগেড। তৎসত্ত্বেও তখনকার ব্রিগেডের প্রধান সমস্যা ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার তথা রাস্তাঘাটের সমস্যা। চারলেনের হাইওয়ে ছিল না। রাস্তাঘাট ছিল সংকীণ’ ও স্বল্প এবং স্বভাবতই জ্যামজটপ্রবণ। মূলতঃ অতি কষ্ট সহ্য করে হলেও ট্রেনই ছিল ভরসা। তার পর হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিলে লম্বাপথ পাড়ি দিতে হত। রাত্রে বাস ছাড়তে হত পরদিন ব্রিগেডে পৌঁছানোর জন্য। শিল্পাঞ্চলের শয়ে শয়ে ব্রিগেডযাত্রীরা রাতের ট্রেনগুলি ধরত। বাড়ী বাড়ী হত রুটি সংগ্রহ। সন্ত্রাস তখনও ছিল। ৬৯এ কংগ্রেসের পাশাপাশি উগ্রবামপন্থী দোসরদের হামলা ছিল, ৭৭এ নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকার হলেও—বিরোধী দলের মস্তানরা বিশ্বাস করত ঐ সরকার টিকবে না। ফলে ৬৯ থেকে ৮১ সনের নির্বাচনের পর পর্যন্ত শহীদের তালিকাও দীঘ’ হয়েছিল। পরে ২০০৭ থেকে যে তালিকা দীর্ঘতর হয়।
এ বারের ব্রিগেডের তাৎপর্য আরও বেশী। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় শাসক দলই তাদের সব নখদাঁত বার করে জনগন তথা দেশকে ক্ষত বিক্ষত করে জনগনের স্বার্থের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় প্রয়াসী হয়েছে। কেন্দ্রীয় শাসক দল ত্রিপুরাকে ক্ষতবিক্ষত করে আমাদের রাজ্যকে গ্রাস করায় উদ্ধত। এ রাজ্যের শাসক দল যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে বেকার যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থান করা সহ এ রাজ্যের জনগনের জন্য কোন ভাল কাজ না করে, শুধু মস্তান আর পুলিশ দিয়ে এ রাজ্য শাসন করে যাওয়ার জন্য। তাই বামপন্থীদের এখনই সময় দাঁতেদাঁত চেপে পার্টিজান লড়াই করার। এখন অজুহাত নয় ত্যাগের সময়। বামপন্থী কমরেডগন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সচেতন মানুষের কাছে আবেদন নিরাপদ দূরত্বে থেকে বামপন্থীদের উপর সব দায়িত্ব দিয়ে উটপাখীর মত হবেন না। নিজের পরিবারকে ও একই সাথে দেশকে বাঁচাতে সক্রিয় আমাদের হতেই হবে, সেটা যত দ্রুত হবে আমাদের ক্ষতিও তত কম হবে। আর মানুষই ইতিহাস রচনা করতে পারে। রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নেতৃত্ব দেওয়া ,লড়াইয়ের সামনে থাকা, এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

                 
Sourin chakraborty brigade
Sourin chakraborty

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *