অধিকার গ্রূপের হাত ধরে যাত্রাগাছি হাই স্কুল অনন্য উদ্যোগে শামিল

District News Kolkata

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,নিউটাউন,২৬ শে জুন:যাত্রাগাছি প্রণবানন্দ হাই স্কুলে পড়াশুনার পাশাপাশি মহিলা ফুটবল টিম তৈরি হচ্ছে “সুব্রত কাপ খেলার জন্য।স্কুলের শিক্ষক রাই হাত বাড়িয়ে দিলেন
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দায়িত্ব নিলেন ২৪ টি জার্সির। সুব্রত কাপে চ্যাম্পিয়নদের কঠিন লড়াইতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে প্রস্তুত।

এবার “অধিকার” গ্রূপ দাড়িয়েছে ২ জন কৃতী ছাত্রের পাশে। না, ওরা লেখা পড়ায় হয়তো আর পাঁচটা সাধারন ছাত্রের মতনই। তবে ওরা এগিয়ে গেছে কবাডি, সাইক্লিং এবং নৌ-বাইচ এর মতন বিরল প্রতিভায় অতি সাধারন হয়েও ওদের প্রতিভা ওদেরকে অসাধারণ করে তুলেছে অন্য অনেকের থেকে।

“যাত্রাগাছি প্রনবানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়” এর দশম শ্রেণীর ছাত্র ওরা। স্কুলের সকল শিক্ষকের উৎসাহ ও সহযোগীতায় ওরা বার বার স্কুলের জন্যে সোনা-রুপা ‘র সম্মান নিয়ে এসেছে, সে সেটা রাজ্য স্তরের বা সর্ব ভারতীয় প্রতিযোগীতাই হোক। ওদের নাম ছাপা হয়েছে বিভিন্ন দৈনিক খবর কাগজেও। পাশে পেয়েছে একজন প্রশিক্ষক। যিনি স্কুলের বাইরে থেকে ওদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন শুধু মাত্র ওদের প্রতিভার কথা ভেবে।

সম্প্রতি ওরা জাতীয় স্তরে তে জয়ী হয়ে ভারতের তরফ থেকে জায়গা করে নিয়েছে আন্তজার্তিক নৌ-বাইচ প্রতিযোগীতায় এবং সেটি সামনের আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে থাইল্যান্ড এ।কিন্ত অর্থাভাবে ওদের যোগদান অনিশ্চিত, প্রযোজনীয় অর্থের সিংহ ভাগ টাই যে বাকি। শ্রী তরুন মুখার্জী-শিক্ষক যার নামে সকল ছাত্র-ছাত্রীর পিলে চমকে যায় সেই তিনি যোগাযোগ করলেন অধিকার গ্রূপের ভাস্কর বাবুর সাথে।

তারপর স্কুলে পরিদর্শনে আসেন তারা আলাপ করেন ছাত্র ছাত্রীদের সাথে। এতদিনের অর্জিত সব সোনা-রুপা ‘র মেডেল আর কয়েকটা পেপার কাটিং নিয়ে এসেছিল। আসলে ওদের প্রোফাইল বলতে ওটুকুই, কোনো রকম চাকচিক্য দেখানোর বাহুল্যতা ওরা করতে জানে না। স্কুল কতৃপক্ষের কাছে জানতে পারলেন গ্রূপের কর্তারা যে ওরা হয়তো রোজ ঠিক করে খেতেও পায় না, যে জায়গাটিতে ওদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তা ব্যবহার করার বিনিময়ে ওরা প্রত্যেক সপ্তাহে একটি দিন করে একটি সরকারি সৌন্দর্যায়ন উদ্যানে গিয়ে ওয়াটার বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। অথচ ওরা থামতে চায় না, ওদের মধ্যে আছে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা।

“অধিকার”গ্রূপের শ্রী ভাস্কর রায় সব শুনে সেদিন ওদের কাঁধে হাত রেখে প্রতিশ্রুতি দেন যে “অধিকার” আছে ওদের পাশে। কথা দেন যে রেজোয়ান করিম এবং আফ্রিদি আলি ‘র থাইল্যান্ডের প্রতিযোগীতায় যাওয়ার জন্য সব কিছুর ভার নেবে “অধিকার”। ছেলে গুলো থাইল্যান্ড জেতে পারছে খেলতে, দেশের নাম উজ্জ্বল করতে। ভাস্কর বাবুর মতে হয়তো আমাদের এই টুকু সাহায্যতে খুলে যাবে ওদের ভবিষ্যতের এক নতুন দরজা, স্বীকৃতি পাবে এক গুচ্ছ নতুন প্রতিভা।

বিদ্যালয়ের চত্ত্বরেই উদীয়মান খেলোয়াড়দের সাহায্যে এগিয়ে এলেন অধিকার গ্রূপ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক আশিস চ্যাটার্জি, থাইল্যান্ড যাওয়ার খরচ দিচ্ছেন ভাস্কর রায়, জার্সি দিচ্ছেন গৌতম দেব পুত্র অভি দেব, ক্রীড়া শিক্ষক আবুল খায়ের আখুঞ্জি (প্রাক্তন) কৃশানু মন্ডল (বর্তমান) ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *