৪৪ টি শ্রম আইন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে বাম শ্রমিক সংগঠনের মিছিলে বাধা পুলিশের

India News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক, দিল্লি, ২ রা আগস্ট:৪৪ টি শ্রম আইন বাতিল করে ৫ টি জোনে ভাগ করে ওয়েজ কোড বিল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার, এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ এবং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন গুলি। তাদের বক্তব্য এই বিলের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার কে লংঘন করা হবে এবং শ্রমিকদের এক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবে। অবিলম্বে এই বিল বাতিলের দাবিতে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ দেশজুড়ে, আজ দিল্লিতে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন গুলি আজ এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।

পূর্ব নির্ধারিত অনুযায়ী মিছিলটি সংসদ ভবনের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ অনেক আগেই আটকে দেয়, এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি বিগতকালের দিল্লিতে সমস্ত রকমের বিক্ষোভ সমাবেশ হত পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সামনে এই প্রথমবার সরকার এবং পুলিশের সহযোগিতায় মিছিল অনেক আগেই আটকে দেওয়া হলো এবং বিক্ষোভকারীদের বলা হলো তারা যেন যন্তর মন্তর দিকে চলে যায় টলস্টয় মার্গের সামনে অবস্থান করলেন শ্রমিকরা ।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলের বিক্ষোভের স্থলকে পুলিশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত দেখছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।সিআইটিইউ র সাধারণ সম্পাদক তপন সেনের বক্তব্য উঠে এলো সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রকাশ, তিনি বললেন সরকার এক স্বৈরাচারী রূপ নিতে চলেছে। ওয়েজ কোড বিলের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচারীর মুখোশ খুলে গেল তাদের পক্ষ থেকে এই বিলকে সমর্থন করা যায় না, এই বিলটিকে একটি কালাকানুন বলেও অভিহিত করে তপন সেন।

বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শ্রমিকদের কাজের পরিসীমা ৮ ঘন্টা একটা সময়। হে মার্কেটে আট ঘন্টা কাজের দাবিতে এক মহা সংগ্রাম আত্মত্যাগ বলিদান এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বজুড়ে আট ঘন্টা কাজের দাবিকে স্বীকৃত করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য সেই কাজের সময় পুরোপুরি নস্যাৎ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের পরিসীমা নির্ধারণ করবে এর ফলে শ্রমিকরা অনিশ্চয়তা এবং তাদের ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। আরও একটি বিষয় শ্রমিক সংগঠন গুলি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে সেটি হল সরকার নতুন বেতন কমিশনের কোন সংস্থান রাখেনি, অর্থাৎ সরকার মনে করছে বেতন কমিশন করে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব আর করবে না ।কাজের মধ্যে দিয়ে সেই বেতন কাঠামো তৈরি হবে বেতন কমিশন থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে সংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা।

সারা দেশ জুড়ে এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগ্রামে সংগঠনগুলি ,এই বিলের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার এবং শ্রমিকদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ কে আরো সুদৃঢ় করল সরকার। সরকার একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে আরেক দিকে শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকারকে খর্ব করতে উদ্যত হয়েছে ।এই দুই এর প্রভাবে ভারতবর্ষের শ্রমিকরা আজ সংকটে, সংগঠনগুলির নেতৃত্ব তাই আহ্বান জানিয়েছে দেশের সমস্ত ক্ষেত্রে শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে এই কালাকানুন এর বিরোধিতা করার ।

দিল্লির আজ কেন্দ্রীয় সমাবেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা তাহলে গণতান্ত্রিক কন্ঠ কে রোধ করার চেষ্টা ফল হিসেবেই পার্লামেন্ট স্ট্রিটে সমস্ত রকমের বিক্ষোভ জমায়েত বাতিল করেছে সরকার ।এই সরকার কোনভাবেই বিক্ষোভ এবং বিরোধিতা পছন্দ করছে না তাই কি এই বাধাদান।

একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে নামতে চলেছে শ্রমিক সংগঠন গুলি সরকারের জনবিরোধী বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কে সংগঠিত করতে দেশজুড়েই আন্দোলনে নামতে চলেছে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন বিশেষ করে সিআইটিইউ উদ্যোগে এই আন্দোলন সংগঠিত হতে চলেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *