কাশ্মীরে পরিস্থিতিতে কি অশনিসংকেত?

Delhi Jammu Kashmir News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,৪ আগস্ট: কাশ্মীরে খুব বড় কিছু ঘটতে চলেছে। সারা উপত্যকা জুড়ে নানা ধরনের নানা গুঞ্জন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস শাখা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী সহ সমস্ত বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন শাহ। কেন এই বৈঠক তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা।

যদিও এই বিষয়ে সরকারের তরফে এখনো কিছু জানানো হয়নি। দুদিন আগে কাশ্মীরে ২৮ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করার নির্দেশ জারি হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অমরনাথ যাত্রী ও পর্যটকদের। রাজ্যের সমস্ত জায়গায় চলছে নাকা চেকিং, টহলদারি ও কড়া তল্লাশি। রাজ্য জুড়ে গুঞ্জন ৩৫ এ কিংবা ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার সম্ভাবনার মত বিষয়কে ঘিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। এর মধ্যে জঙ্গিহানা সর্তকতাও রয়েছে।

অমরনাথ যাত্রা পথে উদ্ধার হয়েছে ল্যান্ডমাইন, স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক। কেরন সেক্টরে ৫ অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করে মেরেছে সেনা। এরা পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিমের সদস্য ছিল বলে দাবি ভারতীয় সেনার। সাদা পতাকা উড়িয়ে তাদের দেহ ফিরিয়ে নিতে বলা হয়েছে পাকিস্তানকে। যদিও পাকিস্তানের তরফ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

এখনো কেরন সেক্টরে চলছে গোলাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ২৯ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক জঙ্গি ঢুকে থাকতে পারে কাশ্মীরে। । দাবি করা হয়েছে পুলওয়ামার মতো বড়সড় হামলার ছক কষেছে জঙ্গিরা।

সব মিলিয়ে কাশ্মীরের চূড়ান্ত পরিস্থিতি। চরম আতঙ্ক উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ঐ রাজ্যের মানুষ। আর তারই মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই বৈঠকের খবর ছড়াতেই নতুন করে বেড়েছে উৎকণ্ঠা। প্রশ্ন উঠেছে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বৈঠক?

জম্মু কাশ্মীর সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিপিআইএম পলিটব্যুরো। সিপিএমের দাবি দেশের পক্ষে এই বিপদজনক রাজনৈতিক হঠকারিতা থেকে সরে আসা উচিত কেন্দ্রের। একইসঙ্গে তাদের দাবি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের সব রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে। ইয়েচুরি কাশ্মীরি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেন কাশ্মীরে বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়েন হলো, তা সংসদে বিবৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি। ৩৫-এ কিংবা ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তা থেকে বার করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদি হামলা সংক্রান্ত যেকোন রকম গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তাও সংসদে জানানো উচিত বলে দাবি করেন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে বলে অভিযোগ করেন ইয়েচুরি। একই সাথে দাবি জানান কাশ্মীরের যে বিশেষ অধিকার সংবিধানে রয়েছে তা কোন ভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়। বিষয়টি রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ওমর আব্দুল্লা এই বিষয়ে রাজ্যপালের আশ্বাস বানিয়ে পান। রাজ্যপাল আশ্বস্ত করেছেন এই সেনা তৎপরতার সঙ্গে ৩৭০ ধারা ৩৫এ এর বাতিলের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু তবুও ওমর আব্দুল্লা এ বিষয়ে রাজ্যপালের কথাকে চূড়ান্ত মানতে নারাজ। তিনি সংসদে এ বিষয়ে কেন্দ্রের পক্ষ বিবৃতি দাবি করেন।

অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে গোটা দেশের সঙ্গে কাশ্মীরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে কেন্দ্র। আজ পর্যন্ত কোন সরকার কাশ্মীর থেকে পর্যটকদের চলে যেতে বলে নি। অমরনাথ যাত্রা অতীতে কোন দিন বন্ধ হয়নি। তাই কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও কেন্দ্র সরকারের বিবৃতি দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু সরকারের মতো এ বিষয়ে সম্পূর্ণ মুখ বুজে রয়েছে বিজেপির অন্যান্য নেতৃত্বও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *