দুই রাজ্যের উপনির্বাচনের ফলাফলে লড়াইতে ফিরলো বামফ্রন্ট

Delhi News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক, দিল্লি, ২৭ শে সেপ্টেম্বর:বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে দ্বিতীয় দফার সরকারের বিপুল পরিমাণ জনসমর্থন নিয়ে তারা সরকারে সংসদে একচ্ছত্র অধিপতি।সংসদে নীতির প্রণয়নের ক্ষেত্রে একপ্রকার বিরোধী বিহীন বিজেপির দাপট দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ১০০ দিনের মধ্যেই একদা বাম দুর্গ কেরল এবং ত্রিপুরায় বিজেপির ভোট কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে, লড়াইয়ে ফিরেছে বামপন্থীরা।কেরলের পালা বিধানসভা কেন্দ্রে দীর্ঘ ৫৩ বছর পর বামেরা জয়লাভ করেছে । বামপন্থীর প্রার্থীর অভূতপূর্ব জয়ে উচ্ছ্বসিত বাম সমর্থকরা, লোকসভা ফলাফলে বামেদের ছিল সবচেয়ে খারাপ ফল ।

উপনির্বাচনের ফলাফল বলছে বামেদের ভোট এক প্রকার লাফিয়ে বেড়েছে, বামেরা লড়াইয়ে ফিরেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে বামেদের এই জয় নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। দীর্ঘ ৫৩ বছর পর জয় পাওয়া পালা বিধানসভায় বাম সমর্থকদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতন।১৯৬৫ সালে কেন্দ্র টি প্রথম গঠন হওয়ার পর জেতে বামফ্রন্ট তারপর থেকে বরাবর ছিল কংগ্রেসের ঘাঁটি,প্রায় ২৯০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয় বাম প্রার্থী।

অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া বাম দলের লড়াইয়ে ফিরে আসাটা বেশ উল্লেখযোগ্য, যখন দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে চলছে। সেখানে মানুষ শক্তিশালী বিরোধী খুঁজতে চাইছে বামফ্রন্টকে প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখল কেরলের মানুষ।

অন্যদিকে সন্ত্রস্ত কবলিত ত্রিপুরায় ফলাফল এক প্রকার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরেই বামেরা ভোট বাড়ালো উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০০০০ ভোট পেয়ে বিজেপি জয় লাভ করে , সেই এলাকাতেই বামেরা প্রায় ৫০০০ ভোটে বাড়িয়ে চমক সৃষ্টি করলো। যদিও তারা পরাজিত হয়েছে কিন্তু এই ফলাফলে বেশ উচ্ছ্বসিত সিপিআইএম নেতৃত্ব , বাধারঘাট বিধানসভায় সিপিএম প্রার্থী বুলটি বিশ্বাস প্রায় ১৫০০০ হাজার ভোট পেয়েছেন অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী গতবার ২৮০০০ ভোট থেকে এবার নেমে এসেছেন কুড়ি হাজার ভোটে। অর্থাৎ ফলাফল প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে।লোকসভায় এই এলাকায় বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট।

এত কম সময়ের মধ্যে বামেদের ফিরে আসার লড়াই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, বামেদের বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বাধারঘাট বিধানসভার নির্বাচনী ফলাফল।

ভোটের ফলাফলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন কেন্দ্রীয় সরকারের জন বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে যেভাবে বামেরা রাস্তায় তার সুফল পেতে শুরু করেছে ভোটের ফলাফলে। এই ফলাফল কতটা অংশের মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারলো তা সময় বলবে, কিন্তু এই ফলাফল বাম কর্মীদের মধ্যে অক্সিজেন জোগাল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *