বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে থানায় ডেপুটেশনে ধুন্ধুমার বাম বিধায়ক কে হেনস্তা

Bankura District News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,বাঁকুড়া,১২ ই অক্টোবর:পুলিশের বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ অভিযোগ তুলে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বেলিয়াতোড় থানায় ডেপুটেশন দিতে গিয়ে পুলিশী বাধার মুখে পড়লেন বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্ত্তী। থানার মূল গেটের সামনে তাঁকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলো বিশাল এক পুলিশ কর্মীরা। এই ঘটনার জেরে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরী হয়। যদিও পরে পুলিশী বাধা অতিক্রম করেই থানায় ঢুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিককে ডেপুটেশন দেন ‘নাছোড়’ এই সিপিএম এই বিধায়ক।

প্রসঙ্গত, সোমবার সাধারণ মানুষের উপর পুলিশী হায়রানি সহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলে বেলিয়াতোড় থানায় ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচী নেয় সিপিএম। এদিন দলের বেলিয়াতোড় এরিয়া কমিটির ডাকে এক বিশাল মিছিল এলাকা পরিক্রমণ শেষে থানার সামনে উপস্থিত হয়। আর সেখানেই থানায় ঢুকে স্থানীয় বিধায়ক ডেপুটেশন জমা দিতে গেলে পুলিশী বাধার মুখে পড়তে হয় তাকে। এদিনের এই ডেপুটেশন কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র, ডিওয়াইএফআই-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভয় মুখার্জী, দলের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য সুজয় চৌধুরী, বিধায়ক সুজিত চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।

পরে বিধায়ক সুজিত চক্রবর্ত্তী বলেন, বামপন্থীরা এই ধ্বস্তাধ্বস্তিতে অভ্যস্ত। আমরা তো কাটমানি নিইনা, ফলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ আমাদের কোন দিনই ভালো হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরপরই পুলিশ আমার কলার ধরেছিল। বিষয়টি বিধানসভার স্পীকার থেকে মুখ্যমন্ত্রী সবাইকেই জানিয়েছিলাম কোন কাজ হয়নি। কারণ এই রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বিধায়ক হওয়া সত্বেও এলাকার কোন সরকারী অনুষ্ঠানে ডাক পাননি। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশই দিয়ে রেখেছেন বিরোধী কোন বিধায়ক হলে তাকে সম্মান দিওনা, শাসক দলের হলে তোমরা টেবিলের তলায় ঢুকে যাও। এছাড়াও সাধারণ মানুষের উপর পুলিশ অকথ্য অত্যাচার করছে, অভিযুক্তকে ছেড়ে অভিযোগকারীকে শাস্তির ব্যবস্থা করছে, মিথ্যে কেস দিচ্ছে, একটি চুরির ঘটনায় গরীব মানুষের তিল তিল করে জমানো টাকা ব্যাঙ্ক থেকে জোর করে তুলিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে দেখাচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও তৃণমূলত্যাগী একজনের নেতৃত্বে হওয়া একটি পুজো কমিটিকে রাজ্য সরকারের পুজো অনুদান থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। এই সবের বিরুদ্ধেই তাদের এই থানা ডেপুটেশন বলে তিনি জানান।

পুলিশের সঙ্গে ‘ধ্বস্তাধ্বস্তি’র ঘটনা হয়নি। ওরা থানায় জোর করে ঢুকতে যাওয়ায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। দাবী তৃণমূলের। দলের অন্যতম জেলা কো-অর্ডিনেটর সুব্রত দরিপা এপ্রসঙ্গে বলেন, ওরা নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ও লাইম লাইটে আসার জন্য এসব করছে। বড়জোড়ার সিপিএম বিধায়ক পুলিশ, প্রশাসন কারো সাথেই যোগাযোগ রাখেননা, ফোন করলেও ফোনে পাওয়া যায়না। তাহলে উনি কি করে সরকারী অনুষ্ঠানে ডাক পাবেন সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *