কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা ফেরত চেয়ে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল দুর্গাপুরে

District News Durgapur Paschim Bardhaman

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেডক,দুর্গাপুর, ৪ঠা জুলাই:কাট মানির অভিযোগে এবার পোস্টার পরল দুর্গাপুর ইস্পাত অঞ্চলে, এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল পরিমাণে টাকা হস্তগত করেছে এই অভিযোগে পড়ল পোস্টার দুর্গাপুরে ইস্পাত অঞ্চলের সেকেন্ডারি অঞ্চলে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো ,রাজ্য জুড়ে যখন শাসক দলের বিরুদ্ধে কাট মানি তোলাবাজির অভিযোগ চরমে এবং বিভিন্ন জায়গায় কাট মানি ফেরতের দাবিতে আছড়ে পড়েছে জনপ্রতিনিধিদের বাড়ির সামনে দুর্গাপুর ও পিছিয়ে থাকলো না । দুর্গাপুরের স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পোস্টার এমনকি তৃণমূল অফিসের সামনে ও এই পোস্টার দেখা যায়। কাটমানির অভিযোগ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একদিকে উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ তার আরেক দিকে মানুষের ক্ষোভ সব মিলিয়ে এই পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল।

একটা সময় শাসকদলের কথাতে উঠে আসত উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে এখন উন্নয়নের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে সাধারন মানুষ তার সঙ্গেই কাঠ মানি এবং তোলাবাজির টাকা ফেরতের দাবি উঠে আসছে।

গোটা রাজ্য জুড়ে কাটমানি নিয়ে যখন উত্তাল রাজ্য সেই সময় বাদ গেল না দুর্গাপুর ও। দুর্গাপুরের নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল নেতা জয়ন্ত রক্ষিত ও রজত সেনের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার তোলাবাজির অভিযোগে পোস্টার পড়ল । বাদ যায়নি ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয় ও ।

এবার সরাসরি তোলাবাজির অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতা ও তাঁর অনুগামীর বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেকেন্ডারি রোডে । ৩২ নম্বর স্ট্রিটের শুরুতেই যে বটতলা রয়েছে সেখানেই ফুটপাথে মাছ নিয়ে বসতেন শ্যামাপদ ধীবর । গত ৬ মাস আগে যখন তিনি প্রথম মাছ বিক্রয় শুরু করেন সেই সময় ওই এলাকার দুই তৃণমূল নেতা জয়ন্ত রক্ষিত এবং রজত সেন ওই স্থানে ব্যাবসা করার জন্য তাঁর কাছে টাকা দাবি করে , এমনই অভিযোগ । মাসিক ৮০০ টাকার বিনিময়ে ওই স্থানে বসার অনুমতি পান শ্যামাপদ ধীবর , এমনই দাবি তাঁর । গত ৬ মাস ধরে এ ভাবেই তিনি টাকা দিয়ে আসছিলেন । চলতি মাসে কোনও কারণে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় আজ তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেন ওই দুই তৃণমূল নেতা , এমনই অভিযোগ । এই মর্মে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শ্যামাপদ ধীবর ।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে জানান যে তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন এবং পুলিশকে ঘটনার তদন্ত করতে বলেছেন । যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে যথাযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মহকুমাশাসকের ।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরমাতা রিনা চৌধুরী জানান যে তিনি একটি অভিযোগপত্র পেয়েছেন । তিনি জানান যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশে কোনও রকম তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না দলে । পুলিশকে ঘটনার সঠিক তদন্তের আবেদন জানান পুরমাতা ।

যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই জয়ন্ত রক্ষিত জানান যে এটি সম্পূর্ণ একটি চক্রান্ত । কোনও ভাবে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিমত জয়ন্তবাবুর । সম্প্রতি তিনি দলের তরফে ব্লকের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন । জয়ন্তবাবুর জানান যে সম্ভবত তাঁর এই দায়িত্ব পাওয়া কেউ কেউ মেনে নিতে পারছে না বলেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর সম্প্রতি দুর্গাপুরে সমস্ত কমিটি ভেঙে দেয় তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব । নতুন কমিটি তৈরি করা হলে এক নম্বর ব্লকের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান জয়ন্ত রক্ষিত । এ ছাড়াও দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সাথেও যুক্ত । কাটমানি ও তোলাবাজি নিয়ে গোটা রাজ্য যখন উত্তাল , সেই সময় এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগে স্বভাবতই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে শিল্প শহরে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *