প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইন এবং টেস্ট নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে

District News Durgapur Paschim Bardhaman

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,দুর্গাপূর,৪ ঠা জুন:১৪ দিনের বদলে ৭ দিন পর শুধুমাত্র থার্মাল স্ক্রিনিং করেই দেশের বহুল সংক্রমিত পাঁচ রাজ্য থেকে ফেরা ৩০ পরিযায়ীকে বাড়ি ফিরতে বলা হল দুর্গাপুরে। ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে কেন রাজ্য সরকারের তৈরি করা নির্দেশিকাও মানা হচ্ছে না দুর্গাপুরে পরিযায়ীদের ক্ষেত্রে। কেন শুধু মাত্র থার্মাল স্ক্রিনিং করেই এদের বাড়ি ফিরতে বলা হচ্ছে? থার্মাল স্ক্রিনিং নয় সোয়াব পরীক্ষা একমাত্র কোভিড নির্ধারণের পরীক্ষা। কেন এই পরিযায়ীদের ক্ষেত্রে তা করা হল না। অভিযোগ উঠেছে এতে শিল্প নগরী দুর্গাপুরকে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে ইচ্ছাকৃত ভাবে।

কয়েকদিন আগেই ভিন রাজ্য থেকে ফেরা ৬ জন দুর্গাপুরের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর মিলেছিল। তারপরেও শহরে ফেরা পরিযায়ীদের জন্য সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দিল্লি, গুজরাট,মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এই পাঁচ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে নির্দেশিকা জারি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বলা হয়েছিল এই পাঁচ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ীদের অবশ্যই ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তাদের মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। তাতে উপসর্গ না দেখা দিলে তবেই তাদের বাড়ি ফিরতে বলা হবে। কিন্তু দুর্গাপুরে ব্যারাজ সংলগ্ন সরকারি ছাত্র যুব আবাসে এই পাঁচ রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাদের ১৪ দিনের বদলে ৭ দিন পরেই শুধু মাত্র থার্মাল স্ক্রিনিং করেই বাড়ি ফিরতে বলা হয়েছে।

সরকারি রিপোর্টে জানানো হয়েছে বহুল সংক্রমিত দেশের পাঁচ রাজ্য থেকে ফেরা ৩০ পরিযায়ী শ্রমিক ৭ দিনের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের পর বাড়ি ফিরল। এর আগে তাদের মেডিকেল স্ক্রিনিং হয়েছে।

কিন্তু ওই কোয়ারেন্টন সেন্টারে থাকা পরিযায়ীরা জানিয়েছেন থার্মাল স্ক্রিনিং ছাড়া তাদের আর কোনো টেস্ট হয়নি। এমনকি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তাদের খাওয়া-দাওয়া, থাকার ক্ষেত্রেও ছিল চুড়ান্ত অব্যবস্থা। এই পুরো বিষয়টির চুড়ান্ত প্রতিবাদ করেছে সিপিআইএম।

সিপিএম অভিযোগ রাজ্য সরকারের তৈরি নির্দেশও এখানে মানা হচ্ছে না। আর এর ফলে শহরবাসীকে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ১৪ দিন থাকার নির্দেশ রাজ‌্য সরকার দিলেও এদের ৭ দিন পরেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও এদের কোনো রকম কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়নি। তার আরও অভিযোগ থার্মাল স্ক্রিনিং-এ করোনা আক্রান্ত কিনা তা ধরা পড়ে না। অথচ তাদের থার্মাল স্ক্রিনিং করেই বাড়ি ফিরতে বলা হয়েছে। যেখানে ভারত বেশির ভাগ করোনা রোগীই উপসর্গহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *