রাখিবন্ধনের মধ্য দিয়ে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন কে স্মরণ করলো বঙ্গীয় সাক্ষরতা সমিতি

District News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক, কলকাতা,১৬ই অক্টোবর, সবার দেশ,আমাদের দেশ,ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ নয়,চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি,১৬ই অক্টোবর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রবর্তিত রাখিবন্ধন উৎযাপনের আহ্বান-” ভাই ভাই এক ঠাই” এই আহ্বান কে সামনে রেখে বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতির রাজ‍্য কমিটির ডাকে আজ সারা রাজ‍্যের ১৫ টি জেলায় ১৫০ টির ও বেশী স্হানে সম্প্রীতির রাখি বন্ধন উৎসব পালিত হয়।

আজকের দিনে ১৯০৫ সালে কলকাতা মুখরিত হয়ে উঠেছিল।বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সারা বাংলা উত্তাল।সাম্রাজ‍্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অগ্রনী ভূমিকায় বাংলার ছাত্র-যুবসমাজ।ব্রিটিশ রা তৎসময়ে হিন্দু মুসলিম এর মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য স্হাপন করার জন‍্য তৎপর ছিলেন।এই হিন্দু মুসলমানের সম্প্রীতি ক্ষুন্ন করে জন্মভূমি বিভক্ত করনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলম ধরেন,প্রতিবাদে বাংলার গন‍্যমান‍্য ব‍্যক্তিবর্গ দের নিয়ে গড়ে তুললেন এক অনন‍্য রাখীবন্ধন উৎসব।

এই অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতি ও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ এর জে.বি .এস.হুল্ডেণ বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ‍্যোগে পাথরঘাটা বাজার ও যাত্রাগাছির ঘুনী র দুটি জায়গায় পদযাত্রা, পথনাটক, পথসভা ও রাখি বন্ধনের মাধ্যমে পালিত হয়।এর সাথে সহযোগিতা করে বিদ‍্যাসাগরের দ্বীশততম জন্মশতবর্ষ উৎযাপন কমিটি।সকাল ১০ টায় বর্নাঢ্য শোভাযাত্রার সহ কারে রাখি বন্ধন উৎসবের সূচনা হয়।পাথরঘাটা বাজারে পথসভায় বক্তব্য রাখেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রাক্তন সভাধিপতি অপর্না গুপ্তা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পক্ষে কবি শ্রী অমল গুহ,বঙ্গীর সাক্ষরতা প্রসার সমিতির পক্ষে শ্রী নীহার চৌধুরী, বিদ‍্যাসাগর দ্বীশততম জন্মশতবর্ষ উৎযাপন কমিটির সম্পাদিকা সবিতা চৌধুরী, লেখক শিল্পী সংঘের পক্ষে রফিকুল ইসলাম, বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষে তাপস রায়,তরুণ মুখার্জি, দেবব্রত হাতী,সৌভিক ভট্টাচার্য, মিঠুন মুখার্জি, প্রসেনজিৎ সামন্ত প্রমুখ ।দুটি জায়গাতেই একটি পথনাটক অনুষ্ঠিত হয়। দুটি জায়গাতেই সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।অনুষ্ঠান শেষে সকলের হাতে রাখী পরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়।

সেদিনের রাখীবন্ধনের সাথে আজকের লক্ষ্য নিশ্চিত ভাবে একরকম নয়,কিন্তু স্বদেশি শাসকদের হাতে নুতন করে যখন ধর্মনিরপেক্ষতা-জাতীয়তাবোধ বিপন্ন তখন ১৬ অক্টোবরের প্রাসঙ্গিকতা সমাজের মধ্যে নতুন করে জাগ্রত করাই সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *