প্রত্যাঘাত এবং প্রতিক্রিয়া

Air Force India News

নিউজ ফ্রন্টলাইনার ওয়েব ডেস্ক,২৭ ফেব্রুয়ারি,২০১৯: মঙ্গলবার ভোররাতে ভারতের বায়ুসেনা প্রত্যাঘাত হানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে। এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৩৫০ জন জঙ্গির এমনটাই দাবি করেছে ভারত সরকার। হামলার পর মঙ্গলবার বিকেলে সরকারের তরফে সর্বোদলীয় বৈঠক করা হয় সেখানে সরকারের তরফে এই প্রত্যাঘাতের বিষয়টি তুলে ধরা হয় বিরোধী দলের নেতাদের কাছে। বলা হয় এই হামলা আত্মরক্ষার স্বার্থে সন্ত্রাসবিরোধী অসামরিক অভিযান। এই বৈঠকের পর একে একে প্রায় সব বিরোধী দলনেতার তাদের মত প্রকাশ করেন এই এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে। একবাক্যে সকলেই এই বায়ুসেনা এই অভিযানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি এই অভিযানকে সক্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিযান হিসেবে ব্যাখা করেন। কংগ্রেস সভাপতি ও আপ নেতা কেজরিওয়াল স্যালুট জানান বায়ুসেনার পাইলটদের।

কিন্তু মঙ্গলবারের এই অভিযানের পর বেশকিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিরোধীরা। বিরোধীদের তরফে এই হামলার পর দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেক বেশি জোড়দার করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন,এই প্রত্যাঘাতের পর দেশে উগ্র দেশপ্রেমের নামে বিকৃত উল্লাসের পরিবেশ সৃষ্টি যাতে না হয় তার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। দেশের শাসক দলও এই প্রত্যঘাতের পর বিজয় মিছিল ইত্যাদির মত কর্মসূচি নেওয়ার পক্ষপাতী নয় বলে জানিয়েছে। কিন্তু তারপরেও দেশের নানা এই উল্লাস দেখা গেছে শাসকদলের নেতা কর্মীদের নেতৃত্বেই। অনেক জায়গায় তো পদ্মশিবিরের উদ্যোগ মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রত্যাঘাতের প্রসঙ্গে সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, এই ঘটনার পর জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব। কোন ভাবেই তারা যেনো হিংসার শিকার না হন তাহলে নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। দেশের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারার মত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিতর্কমূলক আলাপ আলোচনা ঘাতক পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। সেই জন্য এই মুহুর্তে এই বির্তককে হাওয়া না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

একই সঙ্গে তিনি সীতারাম ইয়েচুরি , রাহুল গান্ধী সহ একাধিক বিরোধী দলের তরফে সীমান্ত এলাকায় বসবাস কারী আমি কাশ্মীরিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। কারণ গতকাল বায়ুসেনার হামলার পরে পাকিস্তান চুপ করে বসে থাকবে না তাই ইমরান খান ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট। আর সেই মত মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক সেনা সীমান্তে গোলাবর্ষন শুরু করে দেয়। রাজৌরি,পুঞ্চ, উড়ি,সোপিয়ান সহ সীমান্তের একাধিক সেক্টরে পাক গোলাবর্ষন শুরু হয়েছে বুধবার সকালে তা পরিমাণ বরং বেড়েছে কমেনি।

আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত এই হামলাকে ভারত আত্মরক্ষার তাগিদে সন্ত্রাসদমনকারি অসমারিক হামলা হিসেবে তুলে ধরে ৩৫০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান ঠিক তার উল্টো সুরে কথা বলে জানিয়েছে ভারতের বায়ুসেনা হামলা চালালেও তাতে কোনো মৃত্যু হয়নি। কয়েকজন আহত হয়েছে মাত্র। এছাড়া ভারতের বায়ুসেনার বোমা পাহাড় ও জঙ্গলে পড়েছে বলে তাদের দাবি তাতে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই হামলার বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য পাকিস্তানের তরফে আন্তজার্তিক স্তরের দুটি নিরপেক্ষ সংস্থাকেও হামলা চালানো অঞ্চল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা করে দেখার আবেদন জানান হয়েছে।

অন্যদিকে সর্বদলীয় বৈঠকের পর ওমর আব্দুল্লিও জানান যে ৩০০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে তার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি সরকার। কারণ সরকার জানিয়েছে হামলার আগে গোয়েন্দাদের কাছে এলাকায় জঙ্গি নেতার তালিকা সহ সংখ্যার রিপোর্ট থাকলেও হামলার পর কতজন ও কারা মারা গেছেন তার চিহ্নিত করা যায়নি। তাই তারা নিশ্চিত হবার পর সেই সংখ্যা জানানো সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে সবকটি বিরোধী দলের তরফে দাবি জানান হয়েছে যে, পুলওয়ামা, পাঠানকোট, গুরুদাসপুর, উড়িতে ইন্টালিজেন্স ফেলিওরের কারণে বড় সংখ্যায় জওয়ানদের আমরা হারিয়েছি । দেশের গোয়েন্দাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য সময়মত না পাওয়ার কারণেই এই এতসংখ্যক জওয়ানের রক্তগঙ্গা বয়েছে। তাই গোয়েন্দাদের এই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি যেনো আর না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন সরকারের। এই ধরণের ব্যর্থতার জন্য দেশবাসীকে যেন আর কোন মূল্য দিতে না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *